36th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 36th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
10টি বিষয়বাঙালি জাতি মূলত প্রাক-আর্য (অনার্য) ও আর্য জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে। অনার্যদের মধ্যে নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয় এই চার শাখার মধ্যে 'অস্ট্রিক' জনগোষ্ঠী থেকেই বাঙালির মূল অংশটি এসেছে। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য প্রাচীন বাঙালি ও নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর এই উৎস থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
পুণ্ড্র হলো বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ, যার প্রমাণ খ্রিষ্টপূর্ব ৩,০০০ অব্দের বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে পাওয়া যায়। এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমানের বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজধানী বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্রাট আকবরের নবরত্নের একজন এবং তাঁর রাজত্বকালের ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে বাংলা দেশ ও ভাষা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ও সর্বাধিক তথ্য পাওয়া যায়। গ্রন্থভিত্তিক এই ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলো বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই পুনরাবৃত্তি হয়।
পুরান ঢাকার বিখ্যাত লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ ১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আজম শুরু করলেও এর বড় একটি অংশের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন সুবেদার শায়েস্তা খান। মুঘল আমলের স্থাপত্য ও বাংলার সুবেদারদের ইতিহাস থেকে বিসিএস পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন করা হয়।
১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তित দ্বৈত শাসনের চরম শোষণ ও প্রকৃতির দাপটে বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে) এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সন তারিখ বিসিএস প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের এই গুরুত্বপূর্ণ তারিখটি বিসিএস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত কমন একটি তথ্য।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা হিসেবে পরিচিত। বিসিএস পরীক্ষায় ছয় দফার সাল, পেশকারী এবং এর পটভূমি সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যার ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও অসহযোগ আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক ক্রমধারা বিসিএসের জন্য আবশ্যিক।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন যা পরবর্তীতে ২৭ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেও প্রচারিত হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা ও এর মাধ্যম সম্পর্কিত এই তথ্যটি বিসিএস পরীক্ষার জন্য নোট করে রাখা দরকার।
বাংলাদেশে রোপা আমন ধান সাধারণত শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে রোপণ করা হয় এবং শীতের শুরুতে অর্থাৎ অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে তা কাটার উপযোগী হয়। বিসিএস ভূগোল ও কৃষি অর্থনীতি অংশে বাংলাদেশের প্রধান কৃষিজ ফসল ও তার উৎপাদন মৌসুম সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
সুন্দরবনের মোট ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে পড়েছে, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৬২% (বা ৬০%-এর কিছু বেশি)। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে সুন্দরবনের আয়তন ও এর ভৌগোলিক বিভাজন সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই এই শতাংশটি ভালোভাবে মনে রাখবেন।
২০০০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা MDG-এর ৮টি লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করা। মনে রাখবেন, MDG-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদী ১৭টি লক্ষ্য নিয়ে 'এসডিজি' (SDG) বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল এবং ২০১১ সালের ৩০ জুন ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। বিসিএস পরীক্ষার জন্য সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীগুলোর সাল ও বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের আইনসভা বা জাতীয় সংসদ এক কক্ষবিশিষ্ট, যার আনুষ্ঠানিক নাম 'বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ'। অন্যদিকে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় দেশগুলোতে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে।
২০১৫ সালের ১ আগস্ট ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমায় ভারতের ১১১টি ছিটমহল অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ভারত পায় বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল। বিসিএসে ছিটমহল বিনিময়ের এই তারিখ এবং সংখ্যা সংক্রান্ত প্রশ্নটি খুবই জনপ্রিয়।
বাংলাদেশ ৮৮°০১' থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ২০°৩৪' থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের এই মানগুলো প্রায়ই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অপশনে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তাই মুখস্থ রাখা নিরাপদ।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে। আর সর্বশেষ অর্থাৎ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২২ সালে, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) কর্তৃক পরিচালিত হয়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বসবাসকারী 'পাঙন' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মূলত ইসলাম ধর্মের অনুসারী। বিসিএস মানদণ্ডে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম, বসতি ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
১৬০৮ থেকে ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বাংলার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বুড়িগঙ্গা নদী ও বালু নদীর সংযোগ রক্ষার্থে 'ধোলাই খাল' খনন করেন। মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও শাসকদের অবদান থেকে বিসিএসে নিয়মিত প্রশ্ন থাকে।
১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ৯ মে তা চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে, যা ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ লড়াইয়ের অন্যতম বড় অর্জন।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন