12th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 12th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
6টি বিষয়কোনো ক্রিয়াপদকে ভেঙে তার যে অবিভাজ্য মূল অংশ বা শেকড় পাওয়া যায়, তাকে ব্যাকরণে 'ধাতু' বলা হয়। এর সাথে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী প্রত্যয় বা বিভক্তি যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই ধাতু ও শব্দের মূল (প্রাতিপাদিক) নিয়ে প্রশ্ন আসে, তাই এদের পার্থক্য ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন।
বিখ্যাত দেশপ্রেমমূলক এই পংক্তিটি কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত হয়েছে। উনিশ শতকের এই কবির সাহিত্যকর্মে পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও স্বাধীনতার আকুতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিসিএস প্রস্তুতিতে উনিশ শতকের সাহিত্যিকদের বিখ্যাত কাব্য ও অমর পংক্তিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়তে হবে।
বাক্য শুদ্ধির ক্ষেত্রে পদের রূপ ও বানানের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি; এখানে 'বিদ্বান' শব্দের সাথে বহুবচনবাচক 'ব্যক্তিগণ' এবং 'দারিদ্র্যের' যথাযথ প্রয়োগ রয়েছে। সাধারণত 'বিদ্যান' বা 'দারিদ্র্যতা' রূপগুলো অশুদ্ধ বলে গণ্য হয়। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই এমন প্রমিত শব্দ চয়নের প্রশ্ন আসে, তাই বানানের সূক্ষ্ম নিয়মগুলো আয়ত্ত করা আবশ্যক।
'নিমরাজী' শব্দটিতে 'নিম' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি ফারসি উপসর্গ এবং এর অর্থ 'অর্ধেক'। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি উপসর্গগুলোর মধ্যে না, বদ, বে, কম, দর ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে বাংলা ব্যাকরণের বিদেশি উপসর্গ চেনার প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়, তাই ফারসি ও আরবি উপসর্গের তালিকাটি মুখস্ত রাখা ভালো।
বাংলা বানানরীতি বা ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী 'ঋ', 'র', কিংবা 'ষ' ধ্বনির ঠিক পরে সাধারণত মূর্ধন্য 'ণ' (ণত্ব) যুক্ত হয়। 'পাষাণ' শব্দটিতে ষ-এর প্রভাবে ন পরিবর্তিত হয়ে ণ-এ রূপ নেয়। বিসিএস পরীক্ষায় ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানের ব্যতিক্রমী ও সাধারণ নিয়মগুলো থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবিদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীরকেই সময়ের বিচারে সবচেয়ে প্রাচীন বলে মনে করা হয়। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘ইউসুফ জুলেখা’ কাব্যটি পারস্য সাহিত্যের অনুসরণে রচিত হলেও তাতে দেশীয় সংস্কৃতির অনন্য ছোঁয়া রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার জন্য মধ্যযুগের প্রথম বা প্রাচীনতম কবিদের নাম ও তাঁদের সাহিত্যকর্ম মুখস্থ রাখা বাধ্যতামূলক।
বাঙালি জাতির মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো এই জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত সুরকার ও গীতিকার অতুল প্রসাদ সেন। তিনি বাংলা গানে প্রথম ঠুংরি সুরের প্রচলন করেন এবং 'পঞ্চকবি'র অন্যতম হিসেবে পরিচিত। বিসিএস পরীক্ষার জন্য জাতীয় সংগীত ও ভাষাভিত্তিক বিখ্যাত গানগুলোর গীতিকারদের নাম খুব ভালো করে জেনে রাখা উচিত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘বীরাঙ্গনা’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং একমাত্র সার্থক পত্রকাব্য, যা এগারটি পত্রাকারে রচিত। এই কাব্যের বিভিন্ন পত্রে পুরাণের ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক নারীরা (যেমন শকুন্তলা, দ্রৌপদী) তাঁদের স্বামীদের প্রতি নিজেদের মনোভাব ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিসিএস পরীক্ষায় মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য, গীতিকাব্য ও পত্রকাব্যের পার্থক্য প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর অন্যতম বিতর্কিত ও ট্র্যাজিক প্রধান চরিত্র হলো রোহিনী। গোবিন্দলালের সাথে তার জটিল প্রেমের সম্পর্ক ও পরিণতি বাংলা উপন্যাসের ইতিহাসে এক অনন্য মোড় নিয়ে এসেছে। বিসিএস সিলেবাসে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস এবং সেগুলোর প্রধান চরিত্রগুলোর নাম থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
বাক্যে যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলে এবং এখানে চাবুক হলো ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ। 'ঘোড়াকে চাবুক মার' বাক্যে চাবুক শব্দটির সাথে কোনো অতিরিক্ত বিভক্তি যুক্ত না থাকায় এটি করণে শূন্য বিভক্তি। বিসিএস ব্যাকরণ অংশে কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের জন্য বাক্যটির ভেতরের কার্যকারণ সম্পর্ক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়।
জীবনানন্দ দাশকে মূলত নিসর্গ প্রকৃতি, বাংলার সবুজ মাঠ, নদী ও লতাপাতার রূপ ফুটিয়ে তোলার জন্য ‘রূপসী বাংলার কবি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁর কবিতায় আবহমান বাংলার রূপ এমন এক বিষণ্ন ও জাদুকরি সুষ্মায় ফুটে ওঠে যা অতুলনীয়। বিসিএস সাহিত্যে কবিদের ছদ্মনাম ও উপাধি সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উনিশ শতকের দিকে কলকাতার বিখ্যাত 'বটতলা' এলাকার সস্তা ছাপাখানা থেকে আরবি, ফারসি ও হিন্দী শব্দের মিশ্রণে দোভাষী রীতিতে রচিত যেসব পুঁথি সাহিত্য প্রকাশিত হতো, সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে 'বটতলার পুঁথি' বলা হয়। এসব পুঁথি গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। বিসিএস পরীক্ষায় মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্য ও তার প্রকাশনা মাধ্যম নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
বাক্যের ভাব বা অর্থ সংক্ষেপ করার নিয়ম অনুযায়ী কোনো কথা বা বক্তব্য আগে উচ্চারণ করা হয়নি বা প্রকাশ করা হয়নি, তাকে এক কথায় 'অনুক্ত' বলা হয়। অন্যদিকে যা বলা হয়ে গেছে তাকে 'উক্ত' এবং যা প্রকাশের অযোগ্য তাকে 'অকথ্য' বলে। বিসিএস পরীক্ষার বাংলা অংশ থেকে বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশের নম্বর নিশ্চিত করতে এমন শব্দার্থগুলো বারবার চর্চা করা দরকার।
আঠারো ও উনিশ শতকে বাংলায় কবিগান বেশ জনপ্রিয় ছিল, যেখানে এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায় উভয়েই দক্ষ কবিয়াল ও গায়ক হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এন্টনি ফিরিঙ্গি বিদেশি হয়েও বাংলা কবিগানে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। বিসিএস পরীক্ষার জন্য বাংলা গানের ধারা ও প্রাচীন কবিওয়ালাদের পরিচিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক।
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে যখন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন কোনো শব্দ গঠিত হয়, তখন তাকে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ বলে; যেমন এখানে 'পঠ্' ধাতুর সাথে 'অক' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'পাঠক' শব্দটি গঠিত হয়েছে। বিসিএস ব্যাকরণে প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধাতু চিহ্নিত করতে পারাটা সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
এখানে ‘বক ধার্মিক’ এবং ‘বিড়াল তপস্বী’ দুটি বাগধারার অর্থই হলো ‘ভণ্ড সাধু’ বা কপট ব্যক্তি, যা অর্থের দিক থেকে সম্পূর্ণ সমার্থক। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই কাছাকাছি অর্থবহ বা সমার্থক বাগধারা থেকে প্রশ্ন আসে, তাই প্রবাদ-প্রবচনের ভেতরের অন্তর্নিহিত অর্থ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ধারা হলো গীতি কবিতা, যেখানে কবির ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও একান্ত আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত এই ধারার হাত ধরেই বাংলা কবিতা পেয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ ও বৈচিত্র্য।
পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘ইউসুফ-জুলেখা’ পারস্যের বিখ্যাত কবি জামির কাব্য অবলম্বনে রচিত একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ‘চা’ এবং ‘চিনি’ শব্দ দুটি মূলত চীনা ভাষা থেকে এসেছে। বিসিএস প্রিলিমিনারির ভাষা ও সাহিত্য অংশে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দের উৎস প্রায়ই পরীক্ষামে দেখা যায়, তাই এগুলোর তালিকা ছক করে মুখস্থ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বহুভাষাবিদ ও গবেষক, তবে তাঁর মূল পরিচয় তিনি একজন প্রথিতযশা ভাষাতত্ত্ববিদ। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে তাঁর গবেষণা এবং ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ বাংলা ভাষাতত্ত্বে অনন্য অবদান রেখেছে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন