16th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 16th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
7টি বিষয়দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ’ ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ বা নাটক। এই নাটকে তৎকালীন গ্রামীণ বাংলার নীলকরদের নির্মম নির্যাতন ও সাধারণ কৃষকদের নিদারুণ কষ্টের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রাচীন ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রকাশনাগুলো থেকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
‘পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের মূল চরিত্র কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের মধ্যকার এই সংলাপটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে অমর হয়ে আছে। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ও বিখ্যাত চরিত্রগুলো বিসিএস পরীক্ষার জন্য অবশ্যপাঠ্য।
কৃষ্ ধাতুর সাথে ‘অ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘উৎকর্ষ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে শতভাগ নিখুঁত। অন্যদিকে, ‘কৃষ্’ ধাতুর সাথে ‘ত’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ‘उत्कृष्ट’ (উৎকৃষ্ট) গঠিত হয়। বিসিএসের বাংলা ব্যাকরণ অংশে প্রত্যয় ও প্রকৃতি নির্ণয় থেকে প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করা হয়।
বাংলা ‘অ’ উপসর্গটি সাধারণত অভাব, না বা নঞর্থক অর্থ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন—‘অচিন’ শব্দের অর্থ হলো যা চেনা নয় বা যার অভাব রয়েছে। বিসিএসে উপসর্গ থেকে কমন পেতে কোন উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কালজয়ী গান ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’-এর গীতিকার হলেন মরহুম নজরুল ইসলাম বাবু এবং এর সুর করেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও তাদের গীতিকার-সুরকারদের নাম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় খুবই কমন। তাই বিখ্যাত গানগুলোর নেপথ্য শিল্পীদের নাম মনে রাখা জরুরি।
বাংলা ব্যাকরণের এককথায় প্রকাশ অংশে ‘যা চিরস্থায়ী নয়’ এর সঠিক উত্তর হলো ‘নশ্বর’, যেখানে যা স্থায়ী নয় তা ‘অস্থায়ী’ এবং ক্ষণস্থায়ী অর্থ ভিন্ন। সঠিক শব্দচয়নের জন্য এ ধরনের কাছাকাছি অর্থের শব্দগুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য জেনে রাখা ভালো।
ইংরেজি শব্দ 'Intellectual'-এর সঠিক পরিভাষা হলো 'বুদ্ধিজীবী', যা মননশীল ও উচ্চশিক্ষিত চিন্তাবিদদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বিসিএস ইংরেজি ও বাংলা অনুবাদ বা ভোকেবুলারি অংশে এ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড শব্দের সঠিক অর্থ জানা অত্যন্ত আবশ্যক।
এখানে ‘অবমূল্যায়ন’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গটি হীনতা (অবজ্ঞা অর্থে) প্রকাশ করলেও ‘অবদান’ শব্দটিতে এটি সম্যক বা বিশেষ অর্থ নির্দেশ করেছে। বাংলা ব্যাকরণে একই উপসর্গের ভিন্ন অর্থে ব্যবহারের এই নিয়মটি বিসিএসে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে।
মুক্তবুদ্ধি চর্চার আন্দোলন গড়ে তুলতে ঢাকায় গঠিত ‘ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর মুখপত্র ছিল ‘শিখা’ পত্রিকা, যার প্রতিটি সংখ্যার প্রচ্ছদে এই বিখ্যাত স্লোগানটি মুদ্রিত থাকত। বাংলা সাহিত্য ও পত্রিকার ইতিহাস থেকে এটি একটি ভিআইপি প্রশ্ন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত সংকলন ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন। বিসিএসের সাহিত্য অংশে কবিদের বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থ ও উৎসর্গপত্র কার নামে রয়েছে, তা থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'ঘরে-বাইরে', যা ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপের ত্রিমুখী সম্পর্কের টানাপোড়েন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। BCS পরীক্ষার জন্য রবীন্দ্রনাথের 'গোরা', 'চোখের বালি' ও 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নামগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রকাশিত একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ১৯৫৩ সালে সম্পাদনা করেন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিক হাসান হাফিজুর রহমান। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এই ঐতিহাসিক গ্রন্থটি সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি বিশাল কলেবরের ১৬ খণ্ডে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেও অমর হয়ে আছেন। বিসিএস প্রস্তুতিতে বাংলা সাহিত্যের সংকলন ও সম্পাদনা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি তথ্য।
বাংলা উপন্যাসের আদিগুরু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ট্র্যাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাস্টারপিস 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান এবং আলোচিত চরিত্র হলো রোহিণী। গোবিন্দলালের প্রতি রোহিণীর তীব্র আকর্ষণ এবং এর পরিণতিতে সৃষ্ট সামাজিক ধ্বংসলীলা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। বঙ্কিমচন্দ্রের নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে রোহিণীর আবেদন ও জটিল মানসিক গঠন পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কমন একটি টপিক।
আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও স্বত্ববিলোপ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাংলার নিসর্গ ও মাটির রূপকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই রচিত হয়েছিল। গানটির মূল সুর ও কথার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এ দেশের চিরচেনা নদী, মাঠ, ধানক্ষেত ও প্রকৃতির অপরূপ রূপের বর্ণনা। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায়ই আসে যে, এই গানের প্রথম ১০ চরণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
বিখ্যাত এই পংক্তিটি সাহিত্যিক শেখ ফজলুল করিমের ‘স্বর্গ-নরক’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। মূলত হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি এই অনুপম কবিতাটি রচনা করেছিলেন। বিসিএস প্রস্তুতিতে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের অমর পংক্তি ও তার উৎসগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান 'বাংলা একাডেমি' ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বাঙালি সংস্কৃতি ও গবেষণাকে এগিয়ে নিতে এর ভূমিকা অপরিসীম। এটি বিসিএস প্রিলিমিনারির বাংলাদেশ বিষয়াবলច অংশের একটি অত্যন্ত কমন প্রশ্ন।
সাধু ও চলিত রীতির মূল ফারাক মূলত শব্দভাণ্ডারে নয়, বরং সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপগত ভিন্নতার মধ্যে নিহিত। যেমন—সাধু রীতির 'তাহারা করিতেছি' চলিত রীতিতে এসে রূপ নেয় 'তারা করছি'-তে। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অংশে এই রূপগত পরিবর্তন থেকে প্রায়শই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদক হলেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন, যিনি দীর্ঘ ছয় বছর সাধনা করে ১৮৮১ থেকে ১৮৮৬ সালের মধ্যে এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেন। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত অনুবাদক ও গবেষক ছিলেন যিনি তাঁর বিখ্যাত 'তাপসমালা' গ্রন্থের জন্যও পরিচিত। বিসিএসে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও অনন্য অবদানের জন্য তাঁর নাম বারবার আসে।
বিখ্যাত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পত্রিকা 'সমকাল'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি ষাটের দশকে মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সাহিত্য আন্দোলনে দারুণ ভূমিকা রেখেছিল। বিসিএস পরীক্ষায় প্রখ্যাত সংবাদপত্র ও পত্রিকার সম্পাদকদের নাম প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়।
প্রগতিশীল চিন্তা ও মুসলিম সমাজে সাহিত্যচর্চা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন। ১৯১৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়, যা কাজী নজরুল ইসলামের মতো প্রতিভাবান লেখকদের পাদপ্রদীপে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এই ধরনের ঐতিহাসিক পত্রিকার সম্পাদকদের নাম BCS পরীক্ষার জন্য মাস্ট-নোট।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন