29th BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 29th BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
6টি বিষয়সঠিক উত্তর হলো '১১টি'। বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। স্বরধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ। যেমন: অ, আ, ই ইত্যাদি। অন্যদিকে ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ। যেমন: ক, খ, গ ইত্যাদি।
সঠিক উত্তর হলো 'লুইপা'। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদে ২৩, মতান্তরে ২৪ জন কবি ছিলেন। চর্যাপদের পদসংখ্যা হলো ৫১টি। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১নং পদের পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম পান। তাই, তার মতে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি লুইপা। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি হলো শবরপা।
সঠিক উত্তর হলো 'সাধু রীতি'। সাধু ভাষা ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং পদবিন্যাস সুনির্দিষ্ট; এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। অন্যদিকে চলিত রীতি তদ্ভব শব্দবহুল এবং চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ পরিবর্তিত ও সহজরূপ লাভ করে।
সঠিক উত্তর হলো 'রাজা রামমোহন'। ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। এরপর তিনি স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ঐ গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ যা প্রকাশ হয় ১৮৩৩ সালে। আর এ গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
সঠিক উত্তর হলো 'সাত সাগরের মাঝি'। মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ। তিনি ছিলেন ইসলামী আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক। ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪) তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫) এর জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন। ‘হাতেমতায়ী’ তার রচিত কাহিনি কাব্য। ১৯৬৬ সালে ‘হাতেমতায়ী’ গ্রন্থের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। আর ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১) তার কাব্যনাট্যের নাম।
সঠিক উত্তর হলো 'শাহ মুহম্মদ সগীর'। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি। তিনি মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিকবি। ‘ইউসুফ-জুলেখা’ তাঁর বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। তিনি পারস্য কবি আবদুর রহমান জামি রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলায়েখা’ থেকে কাহিনি গ্রহণ করেছেন। সৈয়দ সুলতানও মধ্যযুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।
সঠিক উত্তর হলো 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্যগল্প ‘চাচা কাহিনী’ (১৯৫২)। সরস, মার্জিত, বুদ্ধিদীপ্ত সাহিত্য ধারার প্রবর্তক সৈয়দ মুজতবা আলীর (১৯০৪-১৯৭৪) ছদ্মনাম প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির, সত্যপীর। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত রচনাবলি: বিষয় গ্রন্থ উপন্যাস শবনম (১৯৬০), অবিশ্বাস্য (১৯৫৪), কত না অশ্রুজলে, শহর ইয়ার, তুলনাহীন ভ্রমণকাহিনি দেশে-বিদেশে, জলে-ডাঙায় ছোটগল্পগ্রন্থ টুনি মেম রম্যরচনা ময়ূরকণ্ঠী,পঞ্চতন্ত্র
সঠিক উত্তর হলো 'সামসুন্নাহার'। শামসুন নাহার মাহমুদ (১৯০৮-১৯৬৪) একজন শিক্ষাবিদ ও লেখক। তাকে মুসলিম নারী জাগরণের কবি বলা হয় (নারী শিক্ষা, নারী আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নারী বিষয়ক লেখার জন্য)। তিনি ১৯৮১ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ লাভ করেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ: পূণ্যময়ী, ফুলবাগিচা, বেগম মহল, রোকেয়া জীবনী, শিশুর শিক্ষা, নজরুলকে যেমন দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ছাত্রী হল (শামসুন্নাহার হল) তাঁর নামে নামকরণ করা হয়। নাম বিশেষত্ব ফজিলাতুন্নেছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ফয়জুন্নেছা কবি ও সমাজসেবিকা শামসুন নাহার মুসলিম নারী জাগরণের কবি বেগম রোকেয়া মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত
সঠিক উত্তর হলো 'বড়ু চণ্ডীদাস'। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। তিনি ভগবতের কৃষ্ণলীলা সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি; কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। এ কাব্যের মোট ১৩টি খণ্ড আছে।
সঠিক উত্তর হলো 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ'। ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ (১৭৩৫) মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ নামক পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ। ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
কবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং অধিকাংশ বিসিএস পরীক্ষার্থী এই তথ্যটিই মনে রাখেন। তবে মনে রাখবেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তাঁর জন্ম ফরিদপুরের ফতেহাবাদে। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের এই রোমান্টিক ধ্রুপদী কবির জন্মস্থান সংক্রান্ত এই দ্বৈত মতবাদটি প্রায়ই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে!
'অনল-প্রবাহ' (১৯০০) গ্রন্থটির রচয়ীতা হলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী ও জাতীয় জাগরণমূলক কাব্যের অগ্রদূত সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় এই বিদ্রোহী সুরের বইটির কারণে ১৯০৯ সালে ইংরেজ সরকার এটি বাজোপ্ত করেছিল। বিসিএসে কাজী নজরুল ইসলামের পূর্বসূরি হিসেবে তাঁর অবদান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে এবং এর প্রথম ও ঐতিহাসিক কবিতাটি হলো ‘প্রলয়োল্লাস’। মোট ১২টি কবিতা সংবলিত এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের অন্যসব প্রখ্যাত কবিতার মধ্যে ‘বিদ্রোহী’, ‘কামাল পাশা’ ও ‘মহররম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য বা প্রথম কবিতার নাম প্রায়ই কমন পড়ে!
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা বাংলা গদ্যে চলিত বা কথ্যরীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করেই ‘বীরবলী রীতি’র জন্ম হয় যা সাধু ভাষার একঘেয়েমি দূর করে। বিসিএস পরীক্ষায় গদ্যরীতির বিবর্তন থেকে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
'জনৈক' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো 'জন + এক', যা স্বরসন্ধির একটি চমৎকার নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়ম অনুযায়ী অ-কার বা আ-কারের পর এ-কার বা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয় এবং তা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয় (যেমন: সদা + এব = সদৈব)। বিসিএস ব্যাকরণ অংশে এ ধরনের নিয়মভিত্তিক সন্ধি প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে দেখা যায়।
একটি সার্থক বাক্য গঠনের জন্য অপরিহার্য তিনটি গুণ হলো—কাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। আকাঙ্ক্ষা হলো পদ শোনার আগ্রহ, আসত্তি হলো সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস এবং যোগ্যতা হলো পদের অর্থগত মিলবন্ধন। বিসিএস বাংলা ব্যাকরণে এই ৩টি গুণের সংজ্ঞা বা ব্যতিক্রম থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
'একাত্তরের চিঠি' হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের কাছে লেখা ৮২টি ঐতিহাসিক পত্রের এক অনন্য সংকলন। গ্রামীণফোন ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি আমাদের মুক্তিসংগ্রামের প্রামাণ্য দলিল। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য ও দলিলপত্র থেকে বিসিএস-এ প্রায়ই প্রশ্ন কমন আসে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা সংস্কৃতির এই প্রাণকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার সাল ও তারিখ বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বর্তমানের ভাষা ও সাহিত্য সংক্রান্ত যেকোনো বড় আয়োজনের পেছনের ইতিহাস এটি।
বাংলা সাহিত্যে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক হলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ইতালীয় ‘সনেটো’ শব্দ থেকে আসা এই গীতিপ্রাধান কবিতায় চৌদ্দটি অক্ষর ও চৌদ্দটি চরণ থাকে। মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' বাংলা সনেটের প্রথম সফল নিদর্শন, যা বিসিএস সিলেবাসের অত্যন্ত প্রিয় একটি টপিক।
সমাস শব্দের शाब्दिक अर्थ হলো সংক্ষেপণ, মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ মিলে যখন একটি নতুন ও সংক্ষিপ্ত শব্দ তৈরি করে, তখন তাকে সমাস বলে (যেমন: দেশ রক্ষার্থে সেবা = দেশসেবা)। বাংলা ব্যাকরণের এই সংক্ষিপ্তকরণের কৌশলটি বাক্যকে সুন্দর ও সাবলীল করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন