22nd BCS — প্রশ্নব্যাংক ও এক্সাম সেন্টার
এখানে 22nd BCS-এর সকল বিষয়ের প্রশ্ন গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি চাইলে বিষয় ধরে পড়তে পারবেন অথবা যেকোনো কয়েকটি বিষয় বেছে নিয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা দিতে পারবেন।
বিষয় নির্বাচন করুন (Filter by Subject):
6টি বিষয়দীনেশচন্দ্র সেনের ১৯০৭ সালে প্রকাশিত 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটিকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও যথার্থ ইতিহাস হিসেবে গণ্য করা হয়। বিসিএস সাহিত্য অংশে গবেষক ও তাদের মৌলিক গ্রন্থ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়ে থাকে।
ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাকরণ গ্রন্থ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ব্যাকরণ কৌমুদী' কিংবা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ব্যাকরণ গ্রন্থগুলোর সাথে এটি গুলিয়ে ফেলবেন না।
বাংলা সাহিত্যের বৈষ্ণব পদাবলীর আদি বা প্রথম রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে মধ্যযুগের সাহিত্যের উৎপত্তির ক্ষেত্রে পদাবলীর আদি কবির নাম প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে।
দোভাষী পুঁথি বলতে কেবল দুটি ভাষা নয়, বরং বাংলা, আরবি, ফারসি ও হিন্দি শব্দের সুষম মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ সাহিত্যরীতিকে বোঝায়। মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য এই মিশ্র ভাষার রূপটি জানা জরুরি।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতাগুলোর এক অনবদ্য সংকলন হলো 'সঞ্চয়িতা', যা ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। বিসিএস বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ও সংকলনগুলোর নাম প্রায়ই অপশনে দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৪ সালে প্রকাশিত ‘রক্তকরবী’ একটি বিখ্যাত প্রতীকধর্মী নাটক, যেখানে যান্ত্রিক সভ্যতার বিরুদ্ধে মানবাত্মার জয়গান গাওয়া হয়েছে। বিসিএস প্রিপারেশনের জন্য তাঁর অন্যান্য নাটক যেমন ‘ডাকঘর’, ‘অচলায়তন’ ও ‘রাজা’র প্রকাশের সালগুলোও খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করে রাখুন।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি ব্রিটিশবিরোধী ও দেশপ্রেমমূলক হওয়ায় ঔপনিবেশিক সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। মনে রাখবেন, তাঁর ‘প্রলয় শিখা’ গ্রন্থটির জন্যও তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত লেখা হলো ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ (গল্প), যা ১৯১৯ সালে ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা হলো ‘মুক্তি’, যা একই বছরে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়েছিল—এই দুটি তথ্যের প্যাঁচ প্রায়ই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে।
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় ১৯১৮ সালে কলকাতা থেকে ‘সওগাত’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার প্রসারে এই পত্রিকার ভূমিকা ছিল অনন্য, যা বিসিএস সাহিত্য অংশে প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
চল্লিশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি ফররুখ আহমদের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪)। তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো ইসলামী ঐতিহ্যের ওপর রচিত কাব্য ‘সিরাজাম মুনীরা’ (১৯৫২), যা বিগত বিসিএসেও বারবার এসেছে।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবি’ (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত জনপ্রিয় উপন্যাস, যা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’, ‘চরিত্রহীন’ ও ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসগুলোর চরিত্র ও নামও পরীক্ষার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
'অপলাপ' একটি সংস্কৃত শব্দ যার শাব্দিক অর্থ হলো কোনো কিছু জোরালোভাবে ‘অস্বীকার’ করা বা গোপন করা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে এমন অনেক সংস্কৃত শব্দের সঠিক অর্থ প্রায়ই বিসিএস প্রিলিমিনারিতে কমন পড়ে।
পদ বা পদাবলি বলতে মূলত শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্যের লীলাকথা অবলম্বনে পদ্যাকারে রচিত ভক্তিমূলক বা দেবস্তুতিমূলক গান বা কবিতাকে বোঝায়। দ্বাদশ শতকে কবি জয়দেব প্রথম ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে ‘পদাবলী’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং বৈষ্ণব পদাবলীর বৃহত্তম সংকলন হলো ‘পদকল্পগুরু’।
বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক মুহম্মদ আব্দুল হাই এবং সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (আধুনিক) গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও গবেষণামূলক গ্রন্থ থেকে বিসিএস-এ প্রায়ই জোড়ায় জোড়ায় লেখকের নাম জানতে চাওয়া হয়।
এখানে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ একটি উপন্যাস—এই তথ্যটি সম্পূর্ণ সঠিক ও পরীক্ষিত। অন্যদিকে ‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস (বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে), ‘বিদ্রোহী’ নজরুলের কবিতা এবং ‘একাত্তরের দিনগুলো’ জাহানারা ইমামের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুমহান জীবন ও আদর্শ নিয়ে ‘মরু ভাস্কর’ (১৯৪১) জীবনীগ্রন্থটি রচনা করেন। পরীক্ষার্থীদের প্রায়ই ‘মরু ভাস্কর’ (জীবনী গ্রন্থ) ও যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘মরুমায়া’ (কাব্যগ্রন্থ) নিয়ে কনফিউশন তৈরি হয়, তাই এটি সতর্কতার সাথে মনে রাখবেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈষ্ণব পদাবলীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ব্রজবুলি ভাষায় ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পদাবলী রচয়িতাদের মধ্যে প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিদের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের এই অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক আহমদ শরীফ ‘বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান’ সম্পাদনা করেন। অন্যদিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদিত ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ও বিসিএস পরীক্ষার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য।
এ বাক্যের ‘কী বিপদ!’ অংশটি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে ‘কী’ শব্দটি দিয়ে বক্তার মনের এক ধরণের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ পেয়েছে। বাক্য বা প্রবাদের অন্তর্নিহিত ভাব বুঝতে এমন ব্যাকরণিক প্রশ্নগুলো বিসিএস মানদণ্ডে খুবই স্ট্যান্ডার্ড।
'ঢাকের কাঠি' বাগধারাটির প্রচলিত অর্থ হলো 'তোষামুদে' বা যে ব্যক্তি তেলিয়ে কথা বলে বা চাটুকারিতা করে। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে বাংলা ব্যাকরণের বাগধারা অংশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে, তাই এর অন্তর্নিহিত অর্থ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
🎯 বিষয় বেছে পরীক্ষা দিন
পছন্দমতো ২/৩টি বিষয় সিলেক্ট করে কাস্টম টেস্ট শুরু করুন